বাতের ব্যথা আরোগ্যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।

বাতের ব্যথা আরোগ্যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।

Homeopathic treatment of Arthritis or Rheumatism rheumatoid.

Rheumatism  বাত কি ?

ইহা চলন ক্রিয়ার বা লোকমোশন সম্বন্ধীয় রোগ।পুষ্টির অভাব জনিত কারনেও বাত হয়।জ্বরসহ সন্ধি মধ্যস্হ স্বেতবর্নের তন্তুময় ঝিল্লিসমুহ আক্রান্ত হলে তাকে বাত রোগ বলে।সাধারনত রক্ত দুষোন,পারদ বা উপদংশ বা প্রমেহ দোষদ্বারা আক্রান্ত হয়।মুত্রে ইউরিক এসিড জমেে,আদ্র স্যাতসেতে পরিবেশে বসবাস,ঘর্ম বন্ধ হয়ে এমনকি বংশগত দোষেও বাত রোগ হয়।

বাতের প্রকার ভেদ:বাত শরীরের বিভিন্ন অংগে আক্রান্ত হয়  এবং ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ নিয়ে দেখা দেয় ।বাত সাধারনত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।যথা:-

  • ১)আর্টিকুলার বা বৃহৎ সন্ধিবাত।
  • ২)গাউট বা ক্ষুদ্র সন্ধিবাদ।
  • ৩)মাসকুলার বা মাংশ পেশীর বাত।

লক্ষণ সমুহ:প্রথমে জ্বরসহ বিভিন্ন সন্ধিতে অসহ্য বেদনা হয়।সন্ধি ফােলা লালবর্ন,প্রদাহ যুক্ত অসহ্য বেদনা।শরীরের ঘাম অম্ল গন্ধ যুক্ত হয়।প্রস্রাব কম ,লালবর্ন, প্রবল পিপাসা।পরিপাক ক্রিয়ার গোলযোগ দেখা দেয়।কিডনিরোগ দেখা দিতে পারে।রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমান বেড়ে গিয়ে ধমনী ও হৃতপিন্ডের ক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটায়।বাত রোগীর হৃৎযন্ত্র,ফুসফুসের ক্রিয়ার ব্যাঘাতের কারনে মেনিংজাইটিস ও চোখের প্রদাহ হতে পারে। শরীরে নেট্রাম ফসের অভাবে ল্যাকটিক এসিডের পরিমান বেরে গিয়ে বেদনার সৃষ্টি হয়।

বাতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের লক্ষণসহ আলোচনা:

একোনাইট নেপিলাস:রোগী শীতকালে শুষ্ক বায়ুতে হঠাৎ প্রবল জ্বরসহ শুষ্ক চর্ম অস্হিরতা,প্রবল পিপাসা,অত্যন্ত আগুনেরমত গরম প্রস্রাব ইত্যাদি লক্ষনে রোগের প্রথম অবস্হায় একোনাইট নেপিলাস উপযোগী।

এপিস মেল: পিপাসাহীন,গরমকাতর,ফুল লফাটানো বেদনা,টাটানীসহ আক্রান্ত স্হান অবস বা কাঠিন্য ও শোধবৎ ফোলা।বেদনা ডান হতে বাম দিকে প্রবাহিত হয়।মাঝে মাঝে চিরিকমারে।তাপে ও গরম ঘরে বৃদ্ধি।রোগীর শরীর ঘামলে আরাম পায়।উপরোক্ত লক্ষণ সমষ্টি যে রোগীর মাঝে দেখা দিবে তাকে এপিস মেল প্রয়োগ করা জরুরী।

আর্নিকা মন্টেন:আক্রান্ত সন্ধির স্ফিতিসহ চিরিকমারা বেদনা।অত্যন্ত টাটানি ও অসাড়তা সামান্য নড়াচড়ায়ও বেদনা বাড়ে।বিছানার গরমেও বাড়ে।স্পর্শ কাতরতা ও বিছানা শক্ত মনে করে। হৃতপিন্ডের নিচের চাপবোধ করে।এই লক্ষণসমষ্টি যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তার জন্য আর্নিকা প্রয়োজন।

আর্সেনিক এলবম:আক্রান্ত সন্ধির মলিন বর্ন স্ফীত সহ জ্বালাময়,হুল ফোটানোর টাটানি,বারবার শীত ও উত্তাপ বোধ।রোগীর সেকতাপে আরাম পায়।রোগীর হৃতস্পন্ধন দুর্বলতা,অস্হিরতা,উদ্বেগ থাকে।রোগীরক্ষুদ্র কম্পমান নাড়ী।মধ্যরাতে রোগের আক্রমন বৃদ্ধি।একনি পরপর রোগের বৃদ্ধি।রোগীর নাড়ী ক্ষীণ শরীর শীতল ও ঘর্মাক্ত থাকে।উপরোক্ত লক্ষণ সমষ্টি যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তাকে দ্রুত আর্সেনিক এলবম দেয়া প্রয়োজন।

বেঞ্জয়িক এসিড:মুত্রে তীব্র ঝাঝাল অশ্বমুত্রের মত গন্ধ রোগীর বাতের পিড়ায় অত্যন্ত কার্যকরী ঔষধ। বাত হঠাৎ ঝাকুনি দিয়া হৃতপিন্ডে আক্রান্ত হয় সাথে তীব্র ঝাঝাল গন্ধ যুক্ত প্রস্রাব থাকলে ও হৃতপিন্ত হতে পুনরায় হাতপায়ে বেদনা ফিরে আসলে এই ঔষধ প্রয়োগ জরুরী।

ব্রাইয়োনিয়া এলবম:রোগের আক্রমন ধীরে ধীরৈ তীব্র হইয়া উঠে।রোগ সন্ধির পর সন্ধি আক্রান্ত হয় এবং সমস্ত শরীরে ছড়াইয়া পড়ে।আক্রান্ত স্হানেঅনুজ্জল লাল বর্নের ফোলা ও রেদনা থাকে।রোগী নড়াচঢ়া করিলে বেদনা বাড়ে এজন্য চুপকরিয়া থাকে।স্হির হইয়া থাকিতে চায় কিন্তু বেদনার কারনে চুপ করিয়া থাকিতে পাড়ে না।ক্ষুধাহীনতা লেপাবৃত জিহ্বাশুষ্ক মুখসহ প্রবল পিপাসা,কোষঠবদ্ধতা প্রভৃতি বিদ্যমান থাকলে ব্রাইয়োনিয়া এলবম উপযোগী।রোগীর পেশীবাত সহ বুকে সুচের আঘাতের মত বেদনা অনুভব করে,শ্বাসকষ্ট হয়।রোগের প্রথম অবস্হায় একোনাইট তার পর বেলেডোনা তার পরে ব্রাইয়োনিয়ার প্রঅয়াজন হয়।ব্রাইয়োনিয়ার শেষে সালফার প্রয়োগে রোগের সম্পুর্ন আরোগ্য হয়।

কলোফাইলম:হাতের কব্জি ও অঙ্গুলীতে বাত হয় পরে স্হান ত্যাগ করিয়া পিঠে আক্রমন করে।বুকে চাপ বোধ করে,শ্বাস কষ্ট হয় স্নায়ুবিক উত্তেজনা থাকে।জরায়ুপীড়া গ্রস্হ মহিলারোগীর ক্ষেত্রে বাত রোগীর ইহা একটি প্রয়োজনীয় ঔষধ।

ক্যামোমিলা:উগ্র স্বভাবের রোগীর ক্ষেত্রে ক্যামোমিলা উপযোগী।রোগী সামান্য বেদনাও সহ্য করিতে পারে না।বেদনা কারনে বিছানা ছাড়িয়া বেড়াইতে থাকেএবয় খিটখিট করে।খসখসানি বেদনা সন্ধি হতে সন্ধিতে ঘুড়িয়া বেড়ায়।রোগীর আক্রান্ত স্হান অসারতা ও দুর্বলতা থাকে।মাথায় গরম ঘাম থাকে।রোগীর বেদনা রাতে বাড়ে।ঝগড়াতে স্নায়ুবিক রোগীর জন্য এ ঔষধটি প্রয়োজন।

কলচিকাম:রোগীর আক্রান্ত অঙ্গ কাল মলিন ও স্ফিত।রোগীর আকান্তস্হানে স্পর্শ কাতরত বেদনা থাকে।যে বাতরোগীর বাত স্হান পরিবর্তন করে।রাতে ও নড়াচড়ায় বাড়ে। রোগীর মুত্র ঘোর লাল বর্নের  হয়।রোগীর আরো ও তীব্র গন্ধে বিরক্তি।রোগরির বাত হৃতপিন্ডে পরিচালিত হয় হৃতপিন্ডে প্রবল বেদনা ও শ্বাসকষ্ট থাকে তার জন্য কলচিকাম প্রয়োজন।

ডিজিটেলিস:হৃৎপিন্ডই ইহার আক্রমন স্হল। রোগীর এক সময সন্ধিবাত ছিল বর্ণহীন ফোলাযুক্ত সন্ধিবাত ছিল তাদের ক্ষেত্রে ডিজিটেলিস উপযোগী।রোগীর দ্রুত কিন্তু ক্ষুদ্র নাড়ী।সামান্য নড়াচড়ায়ও হৃৎপিন্ডে বেদনা ও নাড়ীর গতি বৃদ্ধি হয় এই লক্ষণ সমুহ যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তার জন্য ডিজিটেলিস উপযোগী।

ক্যালমিয়া:যে রোগীর বাত রোগ বাহ্য মলম দ্বারা চিকিৎসা করা হয়ে ছিল যে কারনে এখন হৃৎপিন্ডে বাত আক্রমন হয়েছে ।যে বাত প্রায়ই পাকস্হলীতে পরিচালিত হয় ,পেটে বেদনা হয়।যে বাতরোগ উপর হতে নিচের দিকে পরিচালিত হয় তাদের জন্য ক্যালমিয়া উপযোগী।যে রোগীর বাম পাশে শয়নে বেদনা বাড়ে ও চিৎ হইয়া শয়নে ও সোজা হয়ে শয়নে আরাম পায় সেই রোগীর জন্য ক্যালমিয়া প্রয়োজন।

ল্যাক ক্যান:যে রোগীর এ অঙ্গ হতে সরিয়া অন্য অঙ্গে আক্রান্ত হয় অর্থাৎ যখন েএক অঙ্গে বাত থাকে তখন অপর অঙ্গে থাকে না এইরুপ স্হান পরিবর্তনশীল বাতরোগ উত্তাপে বাড়ে সেই রোগীর ল্যাক ক্যান উপযোগী।

পালসেটিলা:বৃষ্টি ভিজিয়া বা পা ভিজে বাতরোগ হলে বার বার স্হান পরিবর্তনশীল বেদনা।অসহ্য বেদনা ও লাল বর্নের স্ফিতি।বর্শার আঘাতের মত বেদনা।রোগী ক্রোন্দলশীল শীতার্ত রোগীর জন্য উপযোগী।রোগী মুক্ত বায়ু কামনা করে মৃদু ভ্রমন ও খোলা বাতাসে আরাম পাইলে সেই স্ত্রীরোগীর জন্য উপযোগী।

রাস টক্স:স্যাতসেতে স্হানে বসবাস করে বাতরোগে আক্রান্ত হলে অত্যধিক স্হান পরিবর্তনশীল বাত পেশী ও সন্ধি প্রভৃতি স্হানে আক্রান্ত হলে,টিানিয়া ধরার মত বেদনা চিরিক মারা বেদনা,আক্রান্ত স্হান স্ফিত নয় বা লাল স্ফিত।রোগ বিশ্রামে ও চলিতে আরম্ভ করিলে বেদনা বাড়ে।কিছুক্ষন চলার পরে ওতাপে আরাম হলে অস্হিরতা সহ কোমরে বাত হলে রাসটক্স উপযোগী।

সালফার:উর্ধগামী বেদনা সহ ঘুমের মধ্যে ঝাকি দিয়া উঠে। রাতে ও গরমে বেদনা বাড়ে।রোগী ঘুমহীন রাত কাটায় মস্তিষ্কে উত্তাপ ও পায়ে অত্যধীক জ্বালা এ জন্য রোগী পা বাহিরে রাখে। রোগ ব্রাইয়োনিয়া প্রয়োগে বেনা কমিয়া
সামন্য অবশিষ্ট থাকলে সালফার প্রয়োজন হয়।


বাতের চিকিৎসায় বাইয়োকেমিক ঔষধসমুহ:

কেলিমিউর:বাতরোগী আক্রান্ত স্হান ফোলা,জিহ্বা সাদা পুরু লেপাবৃত থাকলে  পুরাতন  বাতের চিকিৎসায় কেলি মিউর উপযোগী।

নেট্রাম ফস:সন্ধিবাতের প্রধান ঔষধ।রোগীন অম্ল গন্ধযুক্ত ঘাম থাকলে বেশী উপযোগী।রোগীর জিহ্বায় পনিরেরমত ময়না ও অম্ল স্বাদ থাকলে ফেরম ফসের সাথে পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করলে নতুন পুরাত উভয়  বাত রোগের জন্য বেশী উপযোগী।

কেলি সাল্ফ:যে বাত রোগীর  স্হান পরিবর্তনশীল বাত ।রোগীর গরম ঘরে বাত বাড়ে,চর্ম শুষ্ক রুগ্ন এবং খসখসে থাকলে সেই বাতরোগীর জন্য কেলি সাল্ফ উপযোগী।

কেলি ফস:যে বাত রোগীর আক্রান্ত স্হান কঠিন আরষ্ঠতা বোধ।রোগী স্নায়বিক প্রকৃতির।রোগীর প্রথম নড়াচড়ায় বেদনা কিন্তু কিছু সময় চলাফেরা করার পরে আরাম।কিন্তু বেশী নড়াচড়া করলে বেদনা বাড়লে কেলি ফস প্রয়োজনীয় ঔষধ।

রোগীর ধাতুগত দিক বিবেচনায় সঠিক ঔষধ নির্বাচন করে নিয়মিত সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করিলে সহজেই বাত বেদনার হতে রক্ষা পাওয়া যায়।কোন রোগী একা একা ঔষধ ক্রয় করে চিকিৎসা করবেন না।অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ সেবন করিবেন।

Comments