কাশির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

কাশি ?
কাশি নিজে কোন রোগ নয়।অন্যরোগের উপসর্গ স্বরুপ।ঠান্ডা বা সর্দি লাগা,ঠান্ডা দ্রব্য আহার,উপজিহ্বা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে কাশি হয়।কামি দুই প্রকার যথাঃ সরল কাশি ও শুষ্ক কাশি।কাশির সাথে কিছু বাহির না হলে তাকে শুষ্ক কাশি আর কাশির সময় কিছু তরল শ্লেষ্মা বাহির হলে তাকে সরল কাশি বলে।প্রায় সকল বক্ষ ব্যাধিতেই এবং কিছু হৃদরোগে কফ-কাশি হয়ে থাকে।আমাদের দেহে দুটি ফুসফুস রয়েছে। এ দুই ফুসফুসে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় শ্বাসনালি। শ্বাসনালি বা ব্রংকাস থেকেই কফ তৈরি হয়। কফ-কাশির প্রসঙ্গ এলেই যে রোগের কথা প্রথমে মনে আসে, সেটি হল যক্ষ্মা। যক্ষ্মা হলে কাশি লেগেই থাকে। প্রথম দিকে কফ পাতলা শ্লেষ্মা জাতীয় হয়। এটি জীবাণু সংক্রমিত হলে পেকে হলুদ হয়ে যায়।

কাশির চিকিৎসায় বিশিষ্ট লক্ষণের বিচারে সদৃশ ঔষধ নির্বাচন গাইড 
  • * দিনের বেলায় কাশি -অ্যামোনকার্ব,আর্জেন্টমেট,ইউফ্রেসিয়া, ফেরাম, ল্যাকেসিস,ম্যাঙ্গেনাম,ফসফরাস,রিউমেক্স,স্ট্যাফিসেগ্রিয়া ইত্যাদি।
  • * জ্বরের শীত অবস্হায় কাশি 
  • আর্সেনিক,ব্রায়োনিয়া,চায়না,ফেরাম,ফসফরাস,সোরিনাম,পালসেটিলা,রাসটক্স,রিউমেক্স,স্যাবাডিলা,মিপিয়া,টিউবারকুলিয়াম ইত্যাদি।
  • * গর্ভবস্হায় কাশি-কস্টিকাম,কোনিয়াম,নাক্স মস্কেটা ইত্যাদি।
  • * হামের পর কাশি -ক্যাল্কেরিয়া কার্ব,কার্বো ভেজ,ড্রসেরা,ইউপেটা, পারফো, হাইয়োসিয়েমাস,কেলি কার্ব,নেট্রাম কার্ব,পালসেটিলা,সালফার ইত্যাদি।
  • * ঋতু বাধাপ্রাপ্ত হইয়া কাশি-মিলিফোলিয়াম,পালসেটিলা সেনেসিও ইত্যাদি।
  • * ঋতুর পূর্বে কাশি-আর্জেন্টাম নাইট,গ্রাফাইটিস,সালফার ইত্যাদি।
  • * ঋতুর সময় কাশি-ক্যাল্কেরিয়া ফস,গ্রাফাইটিস,সিপিয়া,জিঙ্কাম ইত্যাদি। ্
  • * শুইলে কাশি কম পড়ে-ইউফ্রেসিয়া,ফেরাম,হাইড্রাস্টিস,থুজা।
  • *হাঁপানি কম পড়ে -সোরিনাম) ইত্যাদি।
  • * খাইলে কাশি কপাম পড়ে-ইউফ্রেসিয়া,স্পন্জিয়া।
  • *খাইলে কাশি বৃদ্বি পায় এবং বমি হইয়া গেলে নিবৃওি-মেজেরিয়াম।
  • * দক্ষিণ পার্শ্ব চাপিয়া শুইলে কাশির বৃদ্বি -কার্ব অ্যানি,সিনা,মার্কুরিয়াস, স্ট্র্যানাম।
  • * উপুর হইয়া শুইলে কাশি কম পড়ে-ব্যারাইটা কার্ব,ইউপেটা-পারফো,মেডোরিনাম,সিফিলিনাম।
  • * ঠান্ডা জল লাগিলে উপশম-ব্যারাইটা কার্ব,কস্টিকাম,কুপ্রাম,কক্কাস-ক্যা,ওপিয়াম।
  • * কাশির ধমকে মল বা মুত্র বাহির হইয়া পড়ে-রিউমেক্স,স্কুইলা ইত্যাদি।
  • * কাশির সহিত ক্রমাগত উদগার-অ্যম্ব্রা গ্রেসিয়া।
  • * কাশির সহিত হাঁচি -জাস্টিসিয়া।
  • * সঙ্গমের পড় কাশি-ট্যারেন্টুলা।
  • *টিকা লইবার পর কাশি-থুজা,ভ্যাক্সিনিনাম।
  • * ধুমপানে বৃদ্বি -ল্যাকেসিস,ড্রসেরা,নাক্স ভুমি,পালস,থুজা।
  • * হাঁপানি কাশি ঃইপিকাক,আর্সেনিক এলবম, কেলি কার্ব,সালফার,কার্ব ভেজ, থুজা,নেট্রাম সালফ,মেডোরিনাম, ন্যাজা, পালস, ল্যাকেসিস, লাইকোপোডিয়াম,নাক্স ভুমি,সেনেগা,সিফিলিনাম ইত্যাদি।
  • *শ্বাসকষ্ট এত প্রবল যে শুইতে অপারগ 
  • এন্টিমটার্ট,এপিস,এপো,আর্স,অরাম,ক্যাকটাস,হিপার,কার্বভেজ,কেলিকার্ব,ল্যাকেসিস,লাইকোপোডিয়াম,মার্কসল,নাক্সভুমিকা,ন্যাজা,পালসেটিলা,সেনেগা,সিপিয়া,সালফার,ট্যাবেকাম,টেরিবিন্হ,টিউবারকুলিনাম ইত্যাদি।
  • *হুপিং কাশিতে রক্তস্রাবআর্ণিকা,বেলেডোনা,কোরালিয়মরুব্রম, ক্রোটেলাস, ড্রসেরা, ইপিকাক,ব্রোমিয়াম ইত্যাদি।
  • * স্নায়োবিক কাশিঃ-এগারিকাস,এম্ব্র্যা-গ্রিসিয়া ,চায়না,সিমিসিফিউগা,কফিয়া,ল্যাকেসিস,ষ্টিক্টা ইত্যাদি।
  • * বর্ষা ও স্যাতসেতে ঋতুতে কাশি বৃদ্বিঃ-ক্যালকেরিয়া কার্ব,ডক্লামারা,ইপিকাক ,নেট্রাম সালফ,রাস টক্স ইত্যাদি ।
  • * কাশি সরল ঘড়ঘড়েঃ-এমন কার্ব,এমন মিউর,এন্টিম আর্স,এন্টিম টার্ট ,চেলিডোনিয়াম,হিপারসালফ,মিফাইটিস,সেনেগা,সাইলেসিয়া,স্কুইলা,ভেরেট্রাম এলবম ইত্যাদি।

কাশির চিকিৎসার পাশাপাশি নিচে ইল্লেখিত খাদ্য পরিহার করা জরুরী।

দুধ 
কাশি হলে অনেকেই বলেন, গরম দুধ খেতে। গলায় আরাম হয় ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে দুধ ফুসফুস ও গলায় মিউকাস প্রোডাকসন বাড়িয়ে দেয়। কাশি হলে তাই দুধ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

ডিহাইড্রেশন 
কাশি হলে গলা শুকনো একেবারেই রাখা ঠিক নয়। তা বলে চা,কফি বা এনার্জি ড্রিঙ্ক নৈব নৈব চ। চিকিৎসকরা বলছেন, তরল খাবার যেমন স্যুপ খেতে পারেন।

প্রক্রিয়াজাত খাবার 
প্রক্রিয়াজাত খাবার কাশি চলাকালীন একেবারেই ঠিক নয়।কাশি বাড়বে।ব্রেড,পাস্তা, বেকড খাবার, চিপস বা সুগারি ডেসার্টে কাশি বাড়ে।বদলে শাকসবজি বা পুষ্টিকর খাবারে মন দিন।বিশেষ করে ভিটামিন 'সি' যে খাবারে রয়েছে।

ভাজিপোড়া 
কাশি হলে অনেক সময়ই মুখে রুচি থাকে না।অনেকেই ভাজা খাবার খেয়ে রুচি ফেরানোর চেষ্টা করেন। ওটাই ভুল করেন। তাতে কাশি বাড়ে। ফাস্ট ফুড, জ্যাঙ্ক ফুড কাশি হলে ডাক্তাররা পুরোপুরি ছাড়তে বলছেন।

এ ছাড়া জলজ খাদ্য,ঠান্ডা পানিতে গোছল,বৃষ্টিতে ভেজা,রাত্রি জাগরণ নিষিদ্ধ।বুকে সর্দি বসিয়া গেলে পুরাতর ঘৃত বা সরিষার তৈল গরম করিয়া মালিশ দেয়া ভাল।শুষ্ক কাশিতে তালমিছরি চুশিয়া খাইলে আরাম হয়।

Comments