আদর্শ খাদ্যতালিকা যা রোগ প্রতিরোধ করে।
∆খাদ্যের মাধ্যমে রোগের প্রতিরোধ∆
করোনায় ভয়ংকর প্রাদুর্ভাবে করোনা ভাইরাসের সাথে লড়াই করতে মানবদেহে কি কি উপায়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায়।Corona. আমাদের শরীরে প্রবেশ করবে কি করবে না, সেটা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দায়িত্বটা কিন্তু আমাদের। মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি থাকলে যেকোনো রোগই সহজে শরীরে প্রবেশ করে ! কোভিড-১৯ মানবদেহে কতটুকু ক্ষতি করতে পারবে সেটা নির্ভর করবে দেহের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা উপরে !! রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ভর করছে ...
১. খাদ্যাভাস এবং
২. জীবনযাপন পরিবর্তন
কি কি উপায়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায় :
১. খাদ্যাভাসের মাধ্যমে অবশ্যই স্বাস্হ্যসম্মত পুষ্টিকর খাবার !যেমন :
ভিটামিন বি এবং সি , ভিটামিন ডি ও ভিটামিন ই , জিন্ক , ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার যাতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়।
ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার : দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার এবং ডিম খেতে পারেন। আর যারা নিরামিষভোজী তাঁরা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ঔষধ সেবন করুন !
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার :
সবুজ শাকসবজি , সবুজপাতা ( পুদিনা লেটুস পাতা ) ব্রকলি , বাঁধাকপি , ফুলকপি , কাঁচামরিচ , আমলকী, লেবু , পেয়ারা , কমলা , মালটা , পেঁপে , স্ট্রবেরী , আঙ্গুর , আনারস , জাম, জাম্বুরা , কলা , টমেটো , আপেল , চেরী, লিচু , কামরাঙ্গা কিন্তু star fruit যেমন: কামরাঙ্গা , লেবু জাতীয় ফল, বিলম্বী ফল কিডনী রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য না।
ভিটামিন সি ঔষধ ও দিনে একটা খেতে পারেন !
ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার :
চর্বিযুক্ত মাছ যেমন : টুনা , স্যালমন , সারদিনস মাছ , মাশরুম , গরুর মাংসের কলিজা , দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার , কড লিভার ওয়েল , ডিমের কুসুম ( তবে যাঁদের উচ্চ কোলেষ্টেরল আছে , উচ্চ রক্তচাপ আছে তাঁদের অবশ্যই ডিমের কুসুম খেতে পারবেনা তাঁরা ডিমের সাদা অংশ খাবেন ! আর সূর্যের আলো তো আছেই !সপ্তাহে দুদিন আপনার মুখ , পা এবং পিঠে ৩০ মিনিট সূর্যস্নান করলে প্রচুর ভিটামিন পাওয়া যাবে !
ভিটামিন ডি ট্যাবলেট Tab Defrol ( 1000IU ) দিনে দুবার ১২ ঘন্টা পর পর খাবার এক ঘন্টা পরে খেতে পারেন
ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার :
সূর্যমুখীর বীজ , লালমরিচের গুড়ো, কাঠ বাদাম , পেস্তা ও চীনা বাদাম , শুকনো এপ্রিকট,জলপাই এবং জলপাইয়ের আচার , পালং শাক এবং কচুর মূল।
প্রয়োজনে ভিটামিন ই ক্যাপসুল যেমন
cap Ecap 200mg দিনে দুবার /400 mg একবার সেবন করতে পারেন।
ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন : যেমন গাজর , মিষ্টি আলু , টমেটো , কুমড়া রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভুমিকা পালন করে !তবে যাদের ইউরিক এসিড বেশী মানে Gout এর সমস্যা আছে তাঁরা মাটির নীচে উৎপন্ন হয় এমন খাবার খাবেন না।
জিন্ক সমৃদ্ধ খাবার : ভাত, গম , ওটস্ , ডিম , আলু , সবুজ সিম , কুমড়ো , তিসিবীজ , লালমাংস ,দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার , আলমন্ড, পিনাটস্ ক্যাশুনাট এবং Dark Chocolate. করোনার মোকাবিলায় অনেক বেশী কার্যকরী।
চিকেন সুপ ভাইরাসজনিত রোগ থেকে রক্ষা করে।
তৈলাক্ত এবং চর্বি জাতীয় খাবার কম খাবেন।
আদা , রসুন , মধু , তুলসি , কালোজিরা , গ্রীনটির সাথে দারুচিনি , খেজুর , কিসমিস এগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক শক্তিশালী যা ডায়াবেটিস এবং হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো এবং এতে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে কিন্তু ক্যালরির পরিমান কম।
পানি পান করবেন পর্যাপ্ত পরিমানে , দিনে ৭/৮ গ্লাস
টক দই : অত্যন্ত কার্যকরী এবং অ্যান্টঅক্সিডেন্ট সহ এমন কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে যা অন্য জীবানুকে ধ্বংস করে।
গরম খাবার খাবেন , গরম পানি দিয়ে গারগেল করবেন।
জীবনযাত্রা পরিবর্তন মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।শরীর রাখুন সচল : প্রতিদিন ব্যায়াম ,ইয়োগা , সুইমিং হাটাচলা , ট্রেডমিল , ইলেকট্রিক সাইক্লিং করুন ( ৩০ মিনিট ) , বাচ্চাদের সাথে খেলা করুন বা অন্য খেলা খেলুন যদি বাসায় খেলা জায়গা থাকে । অবশ্যই লকডাউন মেনে চলে বাড়িতে।
খাদ্যাভাস , ব্যায়াম এবং স্ট্রেসমুক্ত জীবন জাপানের মাধ্যমে স্বাস্হকর ওজন বজায় রাখুন।
প্রিয়মানুষদের সাথে থাকুন এতে শারীরিক এ মানসিক স্বাস্হ্য ভালো রাখে যা স্চ্রেস কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ! আর লকডাউনে প্রিয়মানুষদের সাথে থাকার এখনিতো উপয্কুত সময়।
Enjoy your Life with you family.
মনকে সুস্হ , শান্ত রাখুন , প্রানখুলে জোর করে হাসার চেষ্টা করুন এতে আপনার শরীর ভাববে আপনি সুখি , তাতেই রেখ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় যা পরীক্ষিত !
ঘুমমমমমম : বেশী রাতে ঘুম আর দেরীতে ঘুম থেকে উঠা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। দিনে ৬/৭ ঘন্টা ঘুমের খুব প্রয়োজন , বাচ্চাদের ৯ ঘন্টার বেশি ঘুম জরুরি
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসপত্র ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ করুন। পরিস্কার পরিচ্ছন্নভাবে শতভাগ মেনে চলুন , হাচি কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন ! জোরদার ভূমিকা এই করোনা কালীন সময়ে সব্বাই কে মেনে চলতে হবে।
প্লিজ অনুরোধ ধুমপান থেকে বিরত থাকুন। সৃষ্টিকর্তা না করুন , কেউ করোনা আক্রান্ত হলে যখন শাসকষ্টের জন্য যদি ভেন্টিলেশন দিতে হয় তখন ভালো ভাবে ধুমপায়ীদের ফুসফুসে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারেনা। যা ভয়ংকর পরিনতি ডেকে আনে !এবং মদ্য পান থেকে বিরত থাকুন।
Breathing exercise করবেন : প্রতি ঘন্টায় ১০ মিনিট করে গভীর ভাবে নিশ্বাস প্রশ্বাস নেবেন। মানে Deep breathing নেবেন।
১. যাঁদের কিডনীর সমস্যা আছে তারা Star fruit যেমন : কামরাঙ্গা , বিলম্বী খাবেন না। ভিটামিন সি পরিমিত পরিমান খাবেন ! ঝুলন্ত সবজি বেশি বেশি খাবেন
২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখবেন
৩. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখবেন
৩. Gout এর সমস্যা থাকলে মাটির নীচে জন্মে এমন খাবার খাবেন না।
৪. হাঁপানির সমস্যা থাকলে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রনে রাখবেন
৫. ক্যান্সারের রোগীরা ভয় না পেয়ে proper hyegine maintain করবেন।
আপনারা সবাই আপন ঘরে আপনমানুষদের সাথে থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেশ কে বাঁচান।অন্যকে সচেতন করতে শেয়ার করে সব্বাই কে জানিয়ে দেন কিভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আপনাদের সুস্বাস্হ্য কামনা করি।
Stay home , Stay safe !
সংকলিত
লেখক ঃ
সার্জন কৃষ্না রুপা মজুমদার
সহযোগী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
Comments
Post a Comment