পাইলস রোগের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা।

পাইলস কি ?


পাইলসের চিকিৎসায় সকল চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সহজ সরল ও অল্প টাকায় দ্রুত নিরাময় সম্ভব।আপনারা অযথা এলোমেলো ও কুচিকিৎসার বদলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিন।

অর্শের কারণ

**পুরনো কোষ্ঠকাঠিন্য।
**লিভার সিরোসিস, যকৃতে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চয় ও অত্যধিক মস্তিষ্কের কাজ।
**মূত্রাশয়ের গোলযোগ, প্রোস্টেট ক্যান্সার, গর্ভাবস্থায় মহিলাদের জরায়ুতে চাপ পড়লে।

আকৃতি অনুযায়ী প্রকারভেদ

**ছোলার মতো,
**আঙুরের মতো,
**খেজুর গাছের শিকড়ের মতো,
**রেশন গাছের গোটার মতো,
**খেজুরের মতো,
**ডুমুরের মতো।

শিরা স্ফীতির ওপর প্রকারভেদ যথা

মলদ্বারের অভ্যন্তরে অর্শ : ১-২ ইঞ্চি ভেতরের দিকে শিরার স্ফীতি হয়ে বলির সৃষ্টি হয়। একে আবার ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রথমতঃ মলদ্বারের ভেতর থেকে ব্যথাহীন রক্তপাত হয়। কিন্তু অর্শের বলি মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসে না।
দ্বিতীয়তঃ বলি মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসে, তবে মলত্যাগের পর নিজেই ভেতরে চলে যায়।
তৃতীয়তঃ বলিগুলো বাইরে বের হয়ে আসে এবং হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে না দিলে বাইরেই থেকে যায়।

মলদ্বারের বাইরে অর্শ
মলদ্বারের বাইরে বলির সৃষ্টি হয় এবং হাত দিয়ে তা অনুভব করা যায় এবং
মিশ্র অর্শ
এক্ষেত্রে মলদ্বারের ভেতরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই অর্শের বলি পাওয়া যায়।

লক্ষণসমূহ

**পায়খানা করার সময় অত্যধিক বা অল্প পরিমাণে রক্ত যেতে পারে।
**গুহ্য দ্বারে জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যায়।
**টাটানি ও যন্ত্রণা।
**কাঁটাবিদ্ধ অনুভূতি।
**মাথা ধরা ও মাথা ভার বোধ।
**উরুদেশ, বক্ষ, নাভির চারপাশে ব্যথা ও মলদ্বারে ভার বোধ।
**কোমর ধরা ও কোষ্ঠবদ্ধতা।

অর্শ রোগে আক্রান্তদের করণীয় 

**নিয়মিত পায়খানা করা।
**পেটে হজম হতে চায় না এমন খাদ্য বর্জন করা।
**চিকিৎসকের পরামর্শমতো বিশ্রাম নেয়া।
**হাতুরে ডাক্তার বা কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা না করা।

প্রতিরোধের উপায়

·       কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখা।
·       নিয়মিত ঘুমানো।
·       পরিমাণ মতো পানি পান করা।
·       অতিরিক্ত পরিশ্রম না করা।
·       তরলও সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ।
·       অধিক মশলা জাতীয় খাদ্য পরিহার করা।

পাইলসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের লক্ষনভিত্তিক আলোচনা 

কোলিনসোনিয়া
রোগীর কোষ্ঠ বদ্ধ শুকনা মল অতিকষ্টে নির্গত হয়।মলদ্বার বেদনা করে,মনে হয় মলগুলি কাাঁচের টুকরার আঘাতের মত বেদনা নিয়ে নির্গত হয়।খোচালাগে বেদনা হয় জ্বলে,রক্ত ঝড়ে তবে কোলিনসোনিয়া তার উপযুক্ত ঔষধ।

ইস্কিউলাস হিপ
কোমরে বেদনা এই ঔষধের নিত্যসহচর।অর্শ রোগীর কোমর বেদনা রক্তস্রাব তেমন একটা হয় না।যদিও হয় অনেকদিন পরে হয়।মলদ্বারে খোঁচানি,টিাটানি বেদনা।মলদ্বার চুলকায় ও জ্বলে ইত্যাদি লক্ষনে ইস্কিউলাস হিপ উপযুক্ত ঔষধ।

হামামিলিস
রক্তপাতযুক্ত বা হ্যামোরয়েডের জন্য হোমিওপ্যাথিক সর্বোত্তম ঔষধের একটি ।রোগীদের চিকিৎসা করার সবচেয়ে প্রচলিত কারণ হল তাদের রক্ত ​​স্রাব জরুরী বন্ধ করা।এই ধরনের রোগীদের সাধারণত বেশ চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন মনে হয়। তাদের উদ্বেগ হ্রাস করার সবচেয়ে ভাল উপায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রক্তপাত বন্ধ করতে হয়। এই ক্ষেত্রে, হ্যামামেলিস রক্তপাতযুক্ত পাইলসের জন্য হোমিওপ্যাথিক সর্বোত্তম ঔষধ।আমি রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য খুব কমই অন্য কোনও ঔষধের প্রয়োজন মনে করি।

আর্সেনিক এলবম
অস্হিরতা,অবসন্যতা,খিটখিটে মেজাজশীতকাতর অর্শ রোগীর জন্য উপযোগী।মলদ্বার জ্বালা,বেদনায় রোগী ছটফট করলে সেই বেদনা গরমে আরাম নোধ হলে আর্সেনিক এলবম অব্যার্থ।

এসিড সালফ
যে রোগী কাজে কর্মে ব্যাস্ত,সকল কাজে তারাহুরা করে এইধাতুর রোগীর জন্য উপয়োগী।যদি অর্শ বড় হইয়া মলদ্বার বন্ধ হইয়া গিয়াছে।গন্ধহীন রসে মলদ্বার ভিজিয়া যায়,মলদ্বার জ্বলে এসিড সালফ উপযুক্ত ঔষধ।

মেডোরিনাম
রোগীর মলদ্বার হতে যদি মাংশ ধোয়া জলের মত দুর্গন্ধযুক্ত রস ছড়ে তবে মেডোরিনাম উপযুক্ত ঔষধ।

এসিড নাইট্রিক
রোগীর মলদ্বারে জ্বালা মনে করে মল দ্বারে পিনের মত বিদ্ধ হইতেছে এইরুপ অনুভুতি।খিটখিটে মেজাজ,শীতকাতর,প্রস্রবে তীব্র গন্ধ থাকে সেইরোগীর জন্য এসিড নাইট্রিক উপযোগী।অর্শ গরম পানিতে আরাম পাইলে।

এসিড মিউর
যে রোগী সামান্য কারনে রাগে,শীতকাতর,অর্শে টাটানি বেদনা কাপড়ের ঘর্ষণও সহ্যহয়না ,গরম পানিতে আরাম রোগীর জন্য এসিড মিউর উপযোগী।

এলো
 যে রোগীরঅলস স্বভাব পায়খানার সাথে বলি বাহির হয়।বলি আঙ্গুরের থলিরমত দেখায় জ্বালা করে সেই জ্বালা ঠান্ডা পানিতে আরাম হয়,মলদ্বার চুলকায় সেই রোগীর জন্য এলা উপযুক্ত ঔষধ।

এমন কার্ব 
শুকনা মল গাটগাট হয়ে বাহির হয়,মলদ্বার চুলকায়,মলত্যাগের সময় মলদ্বার বাহির হয়ে পরে এইরুপ রোগীর লক্তস্রাবীয় অর্শের জন্য উপযোগী।

ব্লুমিয়া অডোটেডা
এটি বাংলাদেশী ঔষধ। বেদনাহীন রক্তস্রাবীয় অর্শরোগে ব্যবহার করা হয়

নাক্স ভম  সালফার
নানা প্রকার অর্শরোগের জন্য এই দুইটি ঔষধ পর্য়ায়ক্রমে দিলে অর্শ রোগের জন্য উপকারী।সকালে সালফার রাতে নাক্স ৩০ শক্তি কিছুদিন প্রয়োগ করে পড়ে ২০০ শক্তির প্রয়োগ করিতে হবে।


বাইয়োকেমিক মতে স্বাধারনত: ক্যালকেরিয়া ফ্লোর ব্যবহার হয়,বেদনা ও রক্ত স্রাবের জন্য ফেরম ফস,আর শুধু বেদনা থাকলে ম্যাগ ফস প্রয়োগ করা হয়।

অর্শ রোগের চিকিৎসা একটি কঠিন ও জটিল চিকিৎসা।এখানে অনেক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। ধাতুগত ও মানসিক অবস্হা বিবেচনায় লক্ষণ সমষি্ট দেখে ঔষধ নির্বাচন প্রয়োজন হয়।


Comments